আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় দুই বছরের শিশু আয়েশা হত্যা মামলার তিন দিন পার হলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাধার মুখে পড়েছেন স্থানীয় তিন সাংবাদিক। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিক সমাজ।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা এলাকায় আয়েশা (২) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো আসামি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি দৈনিক কালবেলার চিলমারী প্রতিনিধি এস এম রাফি, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মোঃ রিয়াদুল ইসলাম এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ ফয়সাল হকের কাজে বাধা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ বিষয়ে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি মোঃ রিয়াদুল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ ওই ব্যক্তি এসে তাদের ওপর চড়াও হন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধি এস এম রাফি বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় হঠাৎ এসে আমাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসময় সাংবাদিক সমাজকে হেয় করে কথা বলেন। স্বাধীন সাংবাদিকতায় এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে, অভিযুক্ত মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানান, শিশু হত্যার ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজার রহমান খন্দকার টিউটর বলেন, সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের অসংগতি তুলে আনেন। দেশের স্বার্থে জাতির স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সবার সহযোগিতা করা উচিত। কিন্তু তা না করে যদি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়, তাহলে সেটি খুবই নিন্দনীয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।


