আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী।
তার অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে স্বামী তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও পরে বিয়ে নিবন্ধনে টালবাহানা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্বামীর স্বীকৃতি, অনাগত সন্তানের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে গত তিন দিন ধরে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় অবস্থান করছেন মোছাঃ আর্নি আক্তার অনামিকা।
তার দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মোছাঃ আর্নি আক্তার অনামিকা বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোঃ রফিক মির্জা। অভিযুক্ত মোঃ রাসেল মিয়া (২৬) কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
মোছাঃ আর্নি আক্তার অনামিকার অভিযোগ, ঢাকায় মোঃ রাসেল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রায় দুই মাস কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।
তিনি জানান, বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিসরে ছিলেন। দেশে ফিরে ঢাকায় কিছুদিন তার সঙ্গে থাকার পর গ্রামের বাড়িতে যান। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন। প্রথমে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় মোঃ রাসেল মিয়ার মামার বাড়িতে ১০ দিন রাখার পর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
মোছাঃ আর্নি আক্তার অনামিকা জানান, সেখানে চার মাস থাকার পর ব্যবসায় লোকসানের কথা বলে রাসেল পাঁচ লাখ টাকা চান। বিয়ে নিবন্ধনের আশ্বাসে বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে ওই টাকা দেন তিনি। পরে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা টালবাহানা শুরু করেন।
মোছাঃ আর্নি আক্তার অনামিকার দাবি, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। বিষয়টি স্বামী ও তার পরিবারকে জানালে তারা তা মেনে নেননি। উল্টো তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোঃ রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় বলেন, মামলায় পাঁচজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি মোঃ রাসেল মিয়াসহ বাকি দুজনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


