আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, কেন্দ্রীয় ড্যাব সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য ডাঃ মোঃ ইউনুছ আলী-এর একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পোস্টে তিনি এক চাকরিপ্রাপ্ত প্রার্থীর জন্য নিজের উদ্যোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করায় অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফেসবুক পোস্টে ডাঃ মোঃ ইউনুছ আলী লিখেছেন, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মোরশেদ আলমকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নাজির হোসেন মাস্টার ফোন করে তাকে জানান, মোঃ মোরশেদ আলম তার স্কুলের সাবেক ছাত্র এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ভাইভায় অংশ নিচ্ছেন, তাই সম্ভব হলে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
ডাঃ মোঃ ইউনুছ আলী আরও উল্লেখ করেন, অনুরোধ পাওয়ার পর তিনি দুইজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং তারা আশ্বাস দেন। পরে মোঃ মোরশেদ আলম ফোন করে তাকে চাকরি পাওয়ার খবর জানান। এরপর তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান, মোঃ মোরশেদ আলমকে তার মেধার জন্য অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নাজির হোসেন মাস্টারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের বর্তমান পরিবেশের জন্য সরকারপ্রধান তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, এ ধরনের পোস্টে চাকরিপ্রাপ্ত প্রার্থীর মেধা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে এবং এটি তার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
মোঃ হাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্টটি দিয়ে ছেলেটিকে খাটো করা হয়েছে।”
মোঃ মাইদুল ইসলাম মিলু মন্তব্যে বলেন, যদি কোনো প্রার্থী মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইভা পর্যন্ত পৌঁছেও সুপারিশের কারণে নির্বাচিত হয়েছেন—এমন ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়, তাহলে তার সাফল্যের সঙ্গে আজীবন একটি প্রশ্ন থেকে যায়। তার মতে, চাকরি পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত মেধা, সততা ও যোগ্যতা।
মোঃ সাইদুর রহমান সবুজ লেখেন, “শুধু মেধা দিয়েই চাকরিটা হলে, তাহলে আপনাকে কখনই বলা লাগত না।”
মোঃ মোসাদ্দেকুর রহমান মন্তব্য করেন, পোস্টের ভাষা থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—চাকরিটি কি মেধার ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি সুপারিশের কারণে। তিনি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লেখেন, “হেল্প করেছেন ভালো, কিন্তু পাবলিক প্লেসে এভাবে প্রকাশ করাটা ভালো লাগেনি।”
মোঃ তাহের আলী প্রশ্ন তোলেন, যোগ্য প্রার্থীর জন্য যদি সুপারিশের প্রয়োজন না হয়, তাহলে এ ধরনের পোস্টের উদ্দেশ্য কী। তিনি সুপারিশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনারও সমালোচনা করেন।
এছাড়া, নিজেকে মোঃ মোরশেদ আলমের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে একজন মন্তব্য করেন, “এতে শিক্ষার ভালো কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না। মেধার মূল্যায়ন কোথায় থাকলো?”
পোস্টটি ঘিরে অধিকাংশ মন্তব্যেই একটি বিষয় উঠে এসেছে—যদি নিয়োগ সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাহলে সুপারিশের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরায় চাকরিপ্রাপ্ত ব্যক্তির অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে, যদি সুপারিশ কার্যকর ভূমিকা রেখে থাকে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়।


