মোঃ দুলাল আলী, ক্রাইম রিপোর্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড করে দিবে বলে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক ‘ ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী আমিরুল হকের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে অফিসের প্রধান সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ এর যোগসাজশে ঘুষ লেনদেন একটি সিন্ডিকেট বা নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছেন কর্মকর্তারা।
সমাজসেবা অফিসের দালাল ইয়াসিনের কল রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, অফিসের ৩০ জন দালাল মাঠ পর্যায়ে রাখা হয়েছে, এদের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন ও শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করান সমাজসেবা কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয় চেহারা ভালো মহিলাদের বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়, মহিলারা তাদের দেওয়া কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ভাতার কার্ড আটকে দেন তারা।
এ ঘটনায় সাজেদা নামে এক ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ২০২৫ সালে সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থলোভী ও নারীলোভী আমিরুল হক বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড করে দিবে বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১৫/২০ জন ব্যাক্তির এনআইডি NID কার্ড ও জন প্রতি ৪,০০০/- (চার হাজার) টাকা সংগ্রহ করে মোট ৬০,০০০/= (ষাট হাজার) টাকা সাজেদার কাছ থেকে লেন আমিরুল হক।
একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে অভিযুক্ত আমিরুল যোগসাজস করিয়া অফিসের কাজ আছে বলিয়া ভুক্তভোগী কে রাজশাহী নিয়া গিয়ে আমিরুল হক একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ভাবে হেনস্ত করে। এবং শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে তার মোবাইলে অপকর্মের ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
আমিরুল হক কর্মক্ষেত্রে ওপর মহলকে ম্যানেজ করে একই জায়গায় পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে টিকে আছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউনিয়ন সমাজকর্মী আমিরুল হকের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। বলেন (ইউএনও) অফিসে অভিযোগ হয়েছে স্যার দেখবে, এ বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাচ্ছি না। এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফের সাথে সাক্ষাতে কথা বলতে গেলে তিনি, সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন, এসব বিষয় নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসবেন না। আপনার অফিসের আমিরুল হক কত সালে যোগদান করেছে? জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের ওপরে চটে যান।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী মানবিক বাংলাদেশকে বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, এক সদস্য কমিটি হিসেবে তদন্ত দেওয়া হয়েছে, রিপোর্ট আসলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া থাকবে।
এ অভিযোগের তদন্ত অফিসার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার লবনী বলেন, বাদী বিবাদী দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে তদন্ত চলমান আছে, শেষ হলে আমি এই রিপোর্ট জমা দিব।


