আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সমবায় সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সমিতির চার সদস্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে চার সদস্যের কাছ থেকে সংগৃহীত মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯২০ টাকা ফেরত না দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর এ অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ রায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বাড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ নামে একটি সমিতির নিবন্ধন নম্বর ৫৬। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সমিতিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয়, আমানতসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে সদস্যদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না দিয়েই সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগকারী রতন কুমার রায়, সবুজ চন্দ্র রায়, নিবাস চন্দ্র মোহন্ত ও নয়নী রানী বলেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু জমাকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে অর্থ ফেরতের জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, সমিতিটির মোট ১০৪ সদস্যের মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সমিতির আর্থিক লেনদেন, সদস্যদের জমাকৃত অর্থ এবং কার্যক্রম তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি মীমাংসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষককে একাধিকবার ডাকলেও তিনি বৈঠকে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সমিতির নিবন্ধন, পরিচালনা, আর্থিক লেনদেন এবং সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হওয়ায় সমবায় সমিতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রযোজ্য সরকারি বিধিবিধান ও চাকরির আচরণবিধির আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


