আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতা—কোনো কিছুই থামিয়ে রাখতে পারেনি কিশোরী অনামিকা রায়কে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ নিয়েই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। অন্য সব পরীক্ষার্থীর মতোই পরীক্ষার হলে বসে উত্তরপত্র লিখছে অনামিকা। তবে তার প্রতিটি উত্তরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য গল্প।
অনামিকার স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষা শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়া। নিজের মতো পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় রয়েছে তার।
জানা যায়, জন্মের পাঁচ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে অনামিকা। এরপর থেকেই তার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে বেঁকে যায়। হাঁটাচলায় তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট করতে হয়। এছাড়া কথাবার্তায়ও কিছুটা জড়তা রয়েছে। তবুও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনোই নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেয়নি সে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর কলেজের ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস শাখার শিক্ষার্থী অনামিকা উপজেলার বোয়াইলভীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভেন্যু কেন্দ্র রাবাইতাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তার রোল নম্বর ৪৯৬৭৪২।
এর আগে ২০২৪ সালে গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় অনামিকা। সীমাবদ্ধতার মাঝেও তার এই এগিয়ে চলা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে অনামিকার এই অদম্য যাত্রা প্রমাণ করে—দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো বাধাই সাফল্যের পথে শেষ কথা নয়।


