আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
উত্তরের সীমান্তঘেরা জেলা কুড়িগ্রাম। নদী, চর ও সবুজে ঘেরা এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।
এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে জারি করা গেজেটে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে কুড়িগ্রামবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আশাবাদ। বিশেষ করে জেলার প্রান্তিক ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন মোকাবিলা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিমন্ত্রীর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও যোগাযোগ সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও রোগীদের অনেক সময় নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথ পেরিয়ে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যেতে হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে গিয়ে জেলার বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকার তরুণদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের নিজ নিজ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকিতে ভূমিকা রাখার কথা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কুড়িগ্রামের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলাবাসী খুশি। এই দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক একটি পদক্ষেপ নয়; জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর উত্তরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
তিনি বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রতিমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা।”


