অনলাইন ডেস্ক :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমান কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাকে সেখানেই পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে।
আজ শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলুর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে একই দিন বিকেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুর রহমান লিখিতভাবে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকেন, তাহলে তার দেওয়া এই ‘মৃত্যুকালীন ঘোষণা’ সরাসরি আইনি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সাধারণত মৃত্যুর পূর্বে দেওয়া এ ধরনের জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বিশেষ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষিকার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।


