এম,এ বারী, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর বাজারে অবৈধভাবে ডিএপি সার মজুদ ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে একটি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে একটি ব্যবসানপ্রতিষ্ঠানে ৬৪ বস্তা ডিএপি সার মজুদের বিষয়টি উঠে আসে। পরে ব্যবসায়ীকে নামমাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দাসের নেতৃত্বে নেজামপুর বাজারের মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ডিএপি সার অবৈধভাবে মজুদ এবং কৃষকদের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগ ছিল।
অভিযানকালে দোকানে মজুদ করা ৬৪ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। এ সময় সার সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, এ শুধু দায়সারা জরিমানা করে অভিযান শেষ না করে সারের মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের ব্যয়ের ওপর। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার ব্যবসায়ীদের গুদাম ও দোকানে নিয়মিত নজরদারি, মজুদের হিসাব যাচাই এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু নামমাত্র জরিমানা নয়, বিধি অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি মৌসুমে সারের সংকট বা অতিরিক্ত দামের সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃষকদের জিম্মি করতে না পারে এ জন্য প্রশাসনের অভিযান হতে হবে নিয়মিত, দৃশ্যমান ও কার্যকর। এককালীন অভিযান নয়, ধারাবাহিক তদারকিই পারে সার বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।


