অনলাইন ডেস্ক :
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে শুধু বিএনপিই নয়, পুরো দেশ গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বলে মনে করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তার আমলে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবাসী জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয়।
পোশাক খাতের বিকাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নেও তার অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক গঠন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল বলেও মনে করা হয়।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান কেবল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন, রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বজনপ্রীতি তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। মৃত্যুর পর দেখা গেছে, এই বিশাল দেশে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল না। তার পররাষ্ট্রনীতি ছিল স্বাধীন এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতো।’


