এম, এ বারী, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিফ-২/২০২৫-২৬ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোপা আমন, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি, শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন, ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা এবং লেবুর চারা বিতরণের মাধ্যমে উপজেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) সকালে নাচোল উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাচোল-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ড. মো. মিজানুর রহমান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৫ হাজার ৬৫৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ পাবেন। এর মধ্যে রোপা আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণে ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি উন্নতমানের ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ৩০০ জন কৃষককে সাত ধরনের উন্নত ও হাইব্রিড সবজির বীজ বিতরণ করা হবে। এসব বীজের মধ্যে রয়েছে কলমি, লালশাক, চালকুমড়া, পালং, শসা, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া। এ ছাড়া শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১৬০ কেজি পেঁয়াজ কন্দ (বীজ), ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার এবং একটি বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে ৮০০ জন কৃষকের মাঝে মোট ৪ হাজারটি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা (জনপ্রতি ৫টি) এবং ২৫ কেজি করে জৈবসার বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া লেবুর আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫টি লেবুর চারা, ২৫ কেজি জৈবসার এবং ৫টি করে খুঁটি প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব এ প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


