আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুর্গম চরাঞ্চলের ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় মাঠে থাকবে ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৭০০ পুলিশ সদস্য এবং ৯ হাজার ১৭৮ জন আনসার সদস্য।
নির্বাচনের দিন সার্বিক নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় আনসারের গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কুড়িগ্রামে ৬৫০ জন সেনা সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম চরাঞ্চলসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কুদরত-এ-খুদা বলেন, কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জেলা। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


