মোঃ মাহাবুল ইসলাম মুন্না, গোদাগাড়ী রাজশাহী :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা মৌজায় অবস্থিত ‘গণকের ডইং’ আদিবাসী গ্রামে নেমে এসেছে মানবিক সংকট। একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রায় ৭০-৮০টি আদিবাসী পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুকুরটিই তাদের একমাত্র পানির উৎস—গোসল, রান্না, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে তারা দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটির ওপর নির্ভরশীল। পুকুরটির পাশেই অবস্থিত তাদের পবিত্র গীর্জা, যা ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্থানীয়দের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসের মাধ্যমে নিয়ম মেনেই পুকুরটি ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বাংলা ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সনের জন্য পুকুরটি ‘গহমাবোনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কাছে লিজ দেওয়া হয়, যা পুরো গ্রামবাসীর জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—পবা উপজেলার একটি সমিতি কীভাবে অন্য উপজেলা গোদাগাড়ীর একটি গ্রামের একমাত্র জীবনধারণের উৎস পুকুরটি লিজ পায়? স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে শুধু নিয়মই নয়, সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে মানবিক দিক এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার।
পুকুরটি লিজ দেওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীরা পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন, যা নারী ও শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম কষ্টকর। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের একটাই দাবি—লিজ বাতিল করে পুকুরটি পুনরায় স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, লিজগ্রহীতা ‘গহমাবোনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর পক্ষ থেকে আদিবাসীদের কাছে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুকুরটি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং একটি মানবিক ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, একটি গ্রামের মানুষের একমাত্র পানির উৎস কেড়ে নিয়ে বাণিজ্যিক লিজ দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর আকুতি— “পুকুরটা আমাদের বাঁচার একমাত্র ভরসা, এটা যেন আমাদের কাছেই থাকে।”


