আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমে চালু থাকা ১০৮টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৩৮টির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। বাকি ৭০টি ইটভাটা কোনো ধরনের পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে ইট উৎপাদন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ ভাটা চালু রাখা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১৭টি অভিযান চালিয়ে ৩১টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে কোনো ভাটাই বন্ধ করা হয়নি।
জানা গেছে, ইটভাটার জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, খাসজমি, বিল ও খাল থেকে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উলিপুর উপজেলা ও কুড়িগ্রাম সদরের কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভাটার আশপাশেই রয়েছে ফসলি জমি, বিদ্যালয়, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সড়ক ও ঘন জনবসতি।
বোতলা গ্রামের বাসিন্দা ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানায়, ইটভাটার ধুলাবালি ও যানবাহনের শব্দে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকটি ইটভাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন দপ্তর ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই ভাটা চালাতে হয়। টাকা না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
কুড়িগ্রাম ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান বকসী বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ইটভাটায় কাজ করেন এবং তাদের পরিবারের জীবিকা এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।’ ইটভাটা সংক্রান্ত নীতিমালা আরো সহজ করার দাবি জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম জানান, মামলা জটিলতার কারণে অবৈধ ভাটাগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটা চালানোর অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে।’


