আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি’র শক্ত অবস্থান ভাঙ্গতে মরিয়া জামায়াত। জাপার দূর্গে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে আসনটিতে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার হাত পাখা প্রতীক নিয়ে জয়ের নিমিত্বে নিরলস ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জাতীয় পার্টির দূর্গ ফেরাতে নির্ঘুম সময় পার করছে লাঙ্গলের প্রার্থী মোঃ আব্দুস সোবহান। নতুন মেরুকরণে আসনটি নিজ নিজ দলের ভোট ব্যাংক তৈরিতে সকল প্রার্থীরা এখন নির্ঘুম সময় পার করছে।
হাট, বাজারসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে শেষ মুহুর্ত্বের ভোট প্রার্থণা করছে প্রার্থী ও কর্মীরা। কে হবেন আগামীর এমপি.? তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানান জল্পনা কল্পনার পাশাপাশি চুলচেঁরা বিশ্লেষণ চলছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে হাত পাখার একক প্রার্থী দেয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ তাসভীর উল ইসলাম আসনটিতে বেশ শক্ত ও ভাল অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের সম্ভাব্য বিজয় ছিনিয়ে নিতে দাড়ি পাল্লার প্রার্থী ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুল আলম সালেহীর সু-সংগঠিত কর্মী বাহিনী দিবানিশি মরিয়া হয়ে কাজ করছে আসনটিতে।
ওদিকে, ১৯৯১ সালে চৌচির হওয়া জাতীয় পার্টির দূর্গ পূণর্গঠনে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আব্দুস সোবহান। তিনি তফশিলের আগে থেকেই সার্বক্ষণিক উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পাশাপাশি অসুস্থ্য ও অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে গিয়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেছেন।
তিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। লাঙ্গলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা আওয়ামী লীগের অর্ধেক ভোট তাদের পক্ষে নিতে পারলেই লাঙ্গলের বিজয় নিশ্চিত। এরই মাঝে জাতীয় পার্টির ৫ নেতাকে হাত পাখার প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভোটারদের মন কাড়তে সব প্রার্থীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধুমাত্র উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনটি এক সময় এরশাদের জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবেই খ্যাত ছিল।
অতিতে এ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে প্রয়াত এ কে এম মাঈদুল ইসলাম বেশ কয়েকবার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে একাধিকবার মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁরই সহোদর মোঃ তাসভীর উল ইসলাম ধানের শীষ নিয়ে এর আগে একবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। ক্লিন ইমেজের এ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরাও এবারে আদাজল খেয়ে মাঠে রয়েছেন।
উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হায়দার আলী মিয়ার মতে, ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ তাসভীর উল ইসলাম এ আসনে বিপুল পরিমান ভোট বেশী পেয়ে নির্বাচিত হবেন। এ আসনে জামায়াতের দাড়ি পাল্লার মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মোঃ মাহাবুবুল আলম সালেহীকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী করতে পরিকল্পিতভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে জামায়াত এর কর্মীরা।
মাস্টার প্ল্যান করে এ আসনের সমস্যা নদী ভাঙ্গন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধানের শীষ, দাড়ি পাল্লা, হাত পাখা ও লাঙ্গল এর প্রার্থীসহ সকল প্রার্থীই বদ্ধপরিকর। কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে দ্রুত এ আসনের উন্নয়ন হবে, তা নিয়েই ভোটারদের মাঝে চলছে শেষ মুহুর্ত্বের চুলচেঁরা বিশ্লেষণ।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের এডভোকেট সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ট্রাক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান হাঁস প্রতীকে মাঠে থাকলেও তাদের তেমন একটা কার্যক্রম কিংবা প্রচারণা চোখে পড়ে না। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪ শত ২ জন। কে হবেন আগামীর জাতীয় সংসদের কান্ডারী ? তা দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো কয়েকদিন, ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।


