আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে ডুবে আছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি। তলিয়ে গেছে স্কুল, চলাচলের সড়ক, বসতবাড়ি ও বাগান। বন্ধ হয়ে গেছে একটি গ্রামের শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসা।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সতিপুরি মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সড়ক। সড়কটি দিয়ে দুটি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসা করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধটির পশ্চিম অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন কালভার্ট দিয়ে পানি গড়ালেও এখন সেটি বন্ধ। ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছে জমির মালিক দুই ভাই মোঃ সোনাউল্লাহ ও মোঃ আমান উল্লাহ। তখন থেকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়। এতে সতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।
জলাবদ্ধতার জন্য দুর্ভোগে পড়েছে ছড়ার পাড়, উত্তর সতিপুরি, দক্ষিণ সতিপুরি ও ব্যাপারীটারী গ্রামের মানুষ। অনেকের বাড়িতে উঠেছে পানি। বসতবাড়ির বাগানে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। জলাবদ্ধতায় অনেক বাড়ির ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
সতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফ উদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সড়ক ডুবে গেছে। একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ওঠায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত নিরসন হওয়া দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবু সাইদ বলেন, কালভার্টটির মুখে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ বিপদে পড়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি তলিয়ে আছে। এসব জমিতে আর আবাদ হবে না। পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে, চলাচল কষ্টকর হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষক মোঃ ওসমান গনি জানান, তার বাড়ির বাগানে পানি উঠে বিভিন্ন প্রকার গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমন ধানের বীজতলাও নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে পানি থাকায় আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
মোছাঃ মমেনা বেগম বলেন, বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। টয়লেটও পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
পানি নিষ্কাশনে কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করা মোঃ আমান উল্লাহ বলেন, আমাদের আর কোনো জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে দুই ভাই বাড়ি করেছি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি নিজে ওই স্থান পরিদর্শন করেছি। কালভার্টের মুখ খুলে দিতে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি আমি। তবে সুরাহা হয়নি। পরে স্থানীয় চেয়াম্যানকে বিষয়টি সুরাহা করতে বলা হয়েছে।


