মোঃ দুলাল আলী, ক্রাইম রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের এক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের এড়িয়ে গুটিকয়েক কথিত সাংবাদিক এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে গোপনে মতবিনিময় সভা করায় এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গোমস্তাপুর উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন জিল্লুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও এলাকার উন্নয়নমূলক বিষয়ে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার কর্মরত কোনো দায়িত্বশীল বা মূলধারার পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তার পরিবর্তে গুটিকয়েক তথাকথিত ‘ভুঁইফোড়’ সাংবাদিক এবং বিশেষ বলয়ের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে সীমিত পরিসরে সভাটি সম্পন্ন করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে গোমস্তাপুরে কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা জানান, “প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যেখানে সব পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করা উচিত ছিল, সেখানে নবাগত (ইউএনও) একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। যোগদানের শুরুতেই তাঁর এমন আচরণ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।”
এ ঘটনার পর কেবল সাংবাদিক সমাজই নয়, স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহলেও ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি শুরুতেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তবে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত ও নিরপেক্ষ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকবে।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুরের পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ জরুরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ইউএনও’র এমন আচরণের প্রতিবাদে এবং প্রশাসনিক কাজে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবিতে আগামীতে কড়া পদক্ষেপ ও কর্মসূচি ঘোষণার কথা ভাবছেন ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ ব্যাপারে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, আজকে মত বিনিময় সভা করা হয়েছে, তবে সাংবাদিক বিষয়ে আমি কিছু মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।


