মোঃ মাহাবুল ইসলাম মুন্না :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী হাট এলাকার মহাসড়কসংলগ্ন একটি বাঁধা পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া বিজয়নগর কলোনির বাসিন্দা সাবিদুল ইসলাম (৩৪)-এর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রথমদিকে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হলেও, পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয়দের দাবিতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত ২৪ জুলাই রাতে নিখোঁজ হন সাবিদুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তিনি কাদামাখা অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের কাছে কিছু বলতে চেয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে ২৬ জুলাই সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী হাট বিজিবি ক্যাম্পের বিপরীতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কসংলগ্ন একটি বাঁধা পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা গোদাগাড়ী মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সাবিদুল উপজেলার বিজয়নগর কলোনি গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। তাঁর স্ত্রী ও সাড়ে চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের দাবি, সাবিদুলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর বাবা অভিযোগ করেন, মাথা ও কপালে রক্তাক্ত ক্ষত, চোখে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন, জিহ্বা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম পানিতে ঝলসে যাওয়ার মতো ফোসকা দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ জানান, সাবিদুল দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে কয়েক দিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত অভ্যাসের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করে এবং মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলমান রয়েছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সর্বস্তরের এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, যদি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে


