রোকসানা আক্তার পিংকি (রাঙ্গামাটি):-
বাংলা পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব (বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহ, চাংক্রান, সাংলান, বিষু, চাংক্রাই, পাতা, বাংলা নববর্ষ) উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি’র আয়োজনে আগামী ৬-১০ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ (পাঁচ) দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকেই এ বর্ণিল আয়োজনের শুরু হয়েছে। মেলার উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, পাহাড়ের ঐতিহ্য সংস্কৃতি আমাদের ধারক বাহক। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতে তাদের উৎসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যুদ্ধ নাই শান্তি চাই” অস্ত্র জমা দিয়ে আলোচনায় বসি আসুন শান্তির পথে। পাহাড়ের বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এটাই প্রত্যাশা।
বৈসাবি উৎসবের মেলায় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, বাঁশ খরম দিয়ে হাঁটা, বেইন বুনন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি, পাজন রান্না, মঞ্চনাটক, চিত্রাঙ্কন ও বর্ণমালা লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও ব্যবহার্য পোশাকের শতাধিক স্টল বসেছে।
উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বসেছে মেলা। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। পাহাড়িদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সমতল থেকে আসা সংস্কৃতিপ্রেমী উৎসুক মানুষও যোগ দিয়ে থাকেন এ উৎসবে।
এ সময় অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি থাকছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব অনুপ কুমার চাকমা এনডিসি পিএসসি, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, ডিসি নাজমা আশরাফী, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
উল্লেখ্য, আয়োজনকে ঘিরে পাহাড়িরা বড় পরিসরে ১৫ দিনব্যাপী উৎসব করে থাকে। মূল উৎসব হয় ৩০ চৈত্র। ১২ এপ্রিল কাপ্তাই হ্রদে ভাসানো হবে ফুল। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির রাজস্থলির বাঙ্গালহালিয়ায় মারমা জনগোষ্ঠীর জলকেলী উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের এ বর্ণিল উৎসব।


