আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় পানিশুন্য হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদী। এক সময় এসব নদী ছিল এই জনপদের প্রাণ, আজ সেগুলো যেন কেবল বালু আর ফাটল ধরা স্মৃতির সাক্ষী। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা, হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলা নদীর বুক এখন আর নদীর মতো নেই, শুকিয়ে গিয়ে তা পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ মাঠে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করছেন কৃষকরাও। কোথাও কোথাও সবজি ক্ষেত, কোথাও ধান বা ভুট্টার চাষ। কিন্তু এই চাষাবাদে নেই কোনো স্বস্তি, বরং লুকিয়ে আছে গভীর অনিশ্চয়তা। এমনি চিত্র অন্যান্য নদ- নদীরও। কারণ, নদী যে কোনো সময় আবার জেগে উঠতে পারে, ভাসিয়ে নিতে পারে সবকিছু।
পানি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল। যে নদীপথ একসময় ছিল যোগাযোগের সহজ মাধ্যম, আজ সেখানে নৌকা ভাসানোর মতো পানিও নেই। মাঝি, জেলে, নৌকার মালিকসহ নদীঘেঁষা অসংখ্য মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়। জীবিকার পথ হারিয়ে অনেকেই অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন পার করছেন।
শুধু মানুষ নয়, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখিসহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নদীগুলোর খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। নিয়মিত খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে যেমন নদীর প্রাণ ফিরে আসবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সুজন মোহন্ত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব নদ নদী খনন না করার ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানির চাপ নিতে পারে না নদীগুলো। সবমিলিয়ে এখানকার নদ নদীর যে সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। আবার অনেক নদী মৃত প্রায়। এসব নদী বাঁচাতে হলে পরিকল্পনা নিয়ে খননের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব।
ধরলা নদী পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ বলেন, আমাদের দেখা একসময় এই ধরলা নদী পানিতে টইটম্বুর থাকতো। সেই ধরলা এখন মরা গাঙে পরিনত হয়েছে। সেই সাথে নদীর যে সৌন্দর্য তা হারিয়ে গেছে। নদীনির্ভর মানুষগুলো পেশা বদল করে বিভিন্ন কর্মে লিপ্ত হয়েছে। তাই নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ধরলা নদী পাড়ের নৌকার মাঝি ভানু চন্দ্র বলেন, নদীতে একেবারে পানি নাই। পানি না থাকার কারণে নৌকা ঠিকমতো চলে না। এর ফলে আয় রোজকার অনেক কমে গেছে। অন্য কাজ করতে না পারায়, খুব সমস্যায় আছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মির্জা মোঃ নাসির উদ্দীন বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে বায়ুতে ধুলিকনা উড়িয়ে বায়ু দুষন হচ্ছে। অন্যদিকে নাব্যতা সংকটসহ পানি না থাকায় জলজ ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে।


