পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় আম গাছ গুলো ছেঁয়ে গেছে মুকুলে । সবুজ পাতা আর হলুদ রঙের মুকুলে ভরে গেছে ডালপালা। বাতাসে ভাসছে মুকুলের সুবাস। মধু-মাসের আগমণী বার্তা নিয়ে কিচির-মিচির শব্দে ছোট বড় পাখি আর গুনগুন শব্দে মৌমাছির দল মধু আহরণে পদচারণা বাগান গুলোতে। আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে থোঁকায় থোঁকায় মুকুল।
মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো। তবে ছোট আকারের চেয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন মিলে ২শ’ ৩৬ হেক্টর (প্রায়) জমিতে আম বাগান রয়েছে। এছাড়া গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে ২/৪টি বা তারও বেশী আমগাছ রয়েছে। এসব আমবাগানে রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি ও হাঁড়িভাঙা জাতের আম উল্লেখযোগ্য।
এ বছর আগে ভাগে আমগাছে মুকুল আসায় আমচাষীরা খুশি। চাষীরা ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাবিলপুর ইউনিয়নের ছোটকুয়া গ্রামের আমবাগান মালিক সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, ইব্রাহিম হোসেন জানান, চতরা ইউনিয়নের কাংগুর পাড়া গ্রামের আজাহার আলী, শাসছুল হক সহ অনেক আম চাষী জানায় বিগত বছর গুলোতে প্রতিটি গাছেই আম ধরেছিল কিন্ত সেই তুলনায় এবার গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নেরন পার-বোয়ালমারী গ্রামের আমচাষী মিজানুর রহমান বলেন, আবহাওয়া সহায়ক হলে পীরগঞ্জে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। তাই আম বিক্রি করে শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও শক্তিশালী ভূমিকা পালন সম্ভব হতে পারে।
পীরগন্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুমন আহমেদ চাষীদের বলেন, আমের মুকুল যত্ন-সহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। কেননা, আবহাওয়া পরিবর্তন হলে ফুল ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রোগ-ব্যাধি ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করা জরুরী। তিনি জানান নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সেচ ও যথা সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে আমের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে চলতি মৌসুমে পীরগঞ্জে ০৩ হাজার ০২ শত ২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার কথা জানা গেছে।


