অনলাইন ডেস্ক :
সকাল ৯টা ২৪ মিনিট। তখনও তালাবন্ধ ভূমি অফিস। নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি। কেবল বারান্দায় বসে থাকা স্যুট পরা একজনকে দেখা যাচ্ছে তার পাশের জনের সঙ্গে আলাপ করছেন। এবং স্যুট পরা ব্যক্তি খোদ ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি আধঘণ্টা ধরে ভূমি অফিসের বারান্দায় বসে সেবা গ্রহীতার অভিযোগ শুনছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
সরকারি এ অফিস সকাল ৯টা থেকে খোলা থাকার কথা। ফলে নির্ধারিত সময়ে ভূমি অফিসের কাউকে না পেয়ে ক্ষোভ জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অফিস সময় সকাল ৯টা হলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। সেবাগ্রহীতারা বাইরে অপেক্ষা করছেন— এ অবস্থাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় উপস্থিত এক সেবাগ্রহীতা জানান, তিনি অনলাইনে মিউটেশনের আবেদন গ্রহণ হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম জানতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অফিসে এসেছেন। তবে এসে দেখেন অফিস বন্ধ। সরকারি সময় অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে অফিস না খোলায় তিনি ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং জিরো টলারেন্সনীতি ঘোষণা করেছে। জনগণের সরকার হিসেবে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সেবা পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রাখতে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’
নির্ধারিত সময়ে অফিস কার্যক্রম শুরু না হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী অফিস প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন।


