আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাইকেরছড়া ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ৬০০ জন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তিন দিনব্যাপী চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিতরণের শেষ দিনে বেশ কয়েকজন উপকারভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, বিতরণের শেষ পর্যায়ে কিছু চাল ব্যবসায়ী অটোরিকশায় করে বস্তা ভর্তি কয়েকশ কেজি চাল নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ কারণে প্রকৃত উপকারভোগীদের একটি অংশ চাল না পেয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।
অভিযোগকারী স্লিপধারী অন্তত ১৭ জন অসহায় ব্যক্তি জানান, তাদের নামে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তারা চাল পাননি। তারা বলেন, “আমরা স্লিপ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু শেষ দিকে এসে বলা হয় চাল শেষ হয়ে গেছে। ফলে আমরা খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হই।”
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মাহমুদুল হাফিজ বলেন, “কয়েকজন ভুক্তভোগী আমাকে চাল না পাওয়ার কথা জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক ৯০ থেকে ১০০ কেজি করে বস্তা ভর্তি চাল অটোরিকশায় তুলছে। অথচ অন্তত ১৭ জন স্লিপধারী উপকারভোগী চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। তারা বলেন, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ না হলে প্রকৃত উপকারভোগীরাই বঞ্চিত হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, “কিছু বস্তায় চাল কম থাকায় সামান্য ঘাটতি হয়েছে। পিআইও সাহেবের সঙ্গে কথা বলে যারা চাল পাননি তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কে বা কারা বস্তা ভর্তি করে চাল নিয়ে গেছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “সঠিক উপকারভোগীরা চাল পাচ্ছেন কিনা তা তদারকির জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা দিতে রাজি হননি। প্রথম দিন আমরা উপস্থিত থেকে সঠিকভাবে চাল বিতরণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। এতে চেয়ারম্যান ও কিছু সদস্য ক্ষুব্ধ হন। পরদিন তাদের সমর্থকরা হট্টগোল সৃষ্টি করলে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।”
তিনি আরও জানান, “শেষ দিন অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেন তারা ১০ কেজির পরিবর্তে মাত্র ৬ থেকে ৭ কেজি চাল পেয়েছেন। পরে দেখা যায় কয়েকশ কেজি চাল বস্তা ভর্তি করে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা স্লিপ কিনে নিয়েছেন।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


