নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রির দাবি তুলে সংবাদ সম্মেলন। কিন্তু বক্তব্যের মাঝেই বারবার অন্যদের কথা বলে দেওয়া, বক্তব্য মনে করিয়ে দেওয়া ও কথা বলার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। অসুস্থ আফজাল হোসেন কি নিজের বক্তব্য স্বাধীনভাবে তুলে ধরছিলেন, নাকি পারিপার্শ্বিক চাপের মধ্যে কথা বলছিলেন? সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে এমন দৃশ্য থাকলে তা যাচাইয়ের দাবি রাখে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কর্ণখালী-ফতেপুর গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত আফজাল হোসেনের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আবারও জমি বিক্রির দাবি তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য, জমি বিক্রির অর্থ এবং আগের সম্পদ হস্তান্তরের ঘটনাগুলো মিলিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, জামাই ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন এবং জমি বিক্রি করে পাওয়া গেছে ২৭ লাখ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে, এই অর্থের কতটা চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে? বাকি অর্থ কোথায়? চিকিৎসার খরচের বিস্তারিত হিসাব ও প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশয় কাটছে না।
আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে—সংবাদ সম্মেলনে অসুস্থতার কারণে জমি বিক্রির কথা বোঝাতে ‘সুবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শব্দচয়নটি ঘিরেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করা হলে চিকিৎসার ব্যয়, অর্থের ব্যবহার এবং বিক্রির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না কেন? তবে শুধু একটি শব্দের ব্যবহার থেকে অর্থ অন্য কাজে ব্যয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; প্রকৃত হিসাব ও নথিই পারে বিষয়টি পরিষ্কার করতে।
এদিকে মোটরসাইকেল বিক্রি, দুই বছরের জন্য বাগান বিক্রি এবং প্রায় ১২ বিঘা জমি টেন্ডারের মাধ্যমে দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পাশাপাশি দুই মেয়ে রেহেনা খাতুন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপির নামে জমি দলিল করার ঘটনাও রয়েছে। ২৯ জুন ২০২৬-এর দলিল নং ১৯৫৮ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হেবা দলিল নং ২৭৯৬-সহ সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোর বক্তব্য, জমির প্রকৃত দখল এবং অর্থের হিসাব যাচাই করাও জরুরি।
আফজাল হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের দাবি, বাবার প্রায় ১৮ মাসের ক্যান্সার চিকিৎসার মধ্যে ১৪–১৫ মাস তিনিই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ১৫ মাসে ১৫ টাকারও কোনো সম্পদ নষ্ট করা হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, পরবর্তী মাত্র তিন-চার মাসে কেন একের পর এক সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ সামনে আসছে?
সব মিলিয়ে সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্নগুলো হলো—২৭ লাখ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, চিকিৎসার প্রকৃত খরচ কত, অন্যান্য সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব কী এবং অসুস্থ আফজাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্য কতটা স্বাধীনভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন?
এসব প্রশ্নের জবাব অনুমান বা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নয়, প্রয়োজন নথি, ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রির দাবি উঠলে অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্যও স্বাধীনভাবে শোনার সুযোগ থাকা জরুরি।


