মোঃ মাহাবুল ইসলাম মুন্না, গোদাগাড়ী রাজশাহী :
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের ধানি জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে, সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, পানি সরবরাহ, মোবাইল চার্জসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। রাতে অনেক এলাকায় দেখা যায়, বাবা-মায়েরা ছোট শিশুদের নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে পাখা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বসন্তপুর এলাকার জাহাংগীর বলেন, “সারাদিন বাইরে কাজ করে এসে খাওয়ার সময় কারেন্ট থাকে না। বাচ্চা গরমে কাঁদে,রাতে ঘুমাতে পারছি না, সকালে অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজে যেতে হচ্ছে।”
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, দিনে গরমে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না, আর রাতে পড়তে বসলে শুরু হয় লোডশেডিং। ফলে তাদের প্রস্তুতিতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এতে গ্রাহকরাও বিরক্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই জেনারেটর ব্যবহার করতে চাইলেও জ্বালানি সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় সিরিয়াল আসার আগেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় জেনারেটর চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।


