আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেনারেল ২৫০ শয্যার হাসপাতালে সরকারিভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দেয়ালে লাগানো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরকারি সরবরাহ বন্ধের নোটিশ। তাই বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে নির্দিষ্ট সময়ে শরীরে পুশ করে তিন দফার মেয়াদ পূর্ণ করছেন কুকুর বিড়ালের কামড়ে আক্রান্তরা।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কুকুর বিড়াল কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়লেও গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ। এ অবস্থায় কেউ কেউ বাইরে থেকে নিজের অর্থ ব্যয় করে ভ্যাকসিন কিনে শরীরে পুশ করলেও অনেকে অর্থের অভাবে কিনতে পারছেন না তা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জীবন-মরণের প্রশ্নে জলাতঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় হয়রানীতে পড়েছেন তারা। হয়রানী কমাতে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি তাদের।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসা মনসুর আলী জানান, নাতির জন্য ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। দেখি সরকারি ভ্যাকসিন এখনও আসে নাই। পরে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে এনে দিলাম। ভ্যাকসিন না দিলে ভয় থাকে। যদি কিছু একটা হয়।
হাসপাতালে ভ্যাসিন নিতে আসা সদরের বেলগাছার মোছাঃ রমিজা জানান, ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। কিন্তু রিকশা ভাড়া ছাড়া বাড়তি টাকা নিয়ে আসি নাই। এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।
কুড়িগ্রামে সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন স্বল্পতা থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলা হাসপাতালে পুরোপুরি বন্ধ সরবরাহ। বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়া এ সংকট সমাধানে চেষ্টার কথা জানায় স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।
তথ্যমতে, প্রতিমাসে শুধু কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীর সংখ্যা চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার। আর জেলার ৮টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিমাসে ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাড়ে তিন থেকে ৪০০ রোগী।


