এম,এ বারী, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ৪নং নেজাপুর ইউনিয়ন পরিষদে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে মোঃ শাহরিয়ার জীবন (১৬) পিতা- মোঃ এমদাদুল হক, গ্রাম – হাট বাকইল ও মোঃ আশিক (১৭) পিতা- মোঃ বাবলু,গ্রাম- চকনেজামপুর দূই জন কিশোরকে আটক কোরে প্রায় এক ঘন্টা যাবত শারীরিক নির্যাতন চালায় উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম।
পাষবিক নির্যাতনের ফলে দুই জন কিশোর গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর পরিবার তাদের উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, মোঃ আশিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং অপর জন কিশোরের হাত ভেঙে যাওয়ার কারনে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় যে,গত-৯ এ সেপ্টেম্বর-২৬ বুধবার আনুমানিক বেলা ১১টা হতে ১ টার মধ্যে উৎকুড়া খড়িবাড়ী নামক ব্রিজের পার্শ্ব হতে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পিতা-মোঃ আনিসুর রহমান, গ্রম- হাপানিয়া এর একটি হিরো স্প্লেন্ডার প্রো যার নাম্বার চাঁপাইনবাবগঞ্জ হ-১২-৬৭৯৫ মটর সাইকেলটি হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে উক্তদিনই এলাকাবাসীর তথ্যমতে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ ভাজন দুই জন কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে ভুক্তভোগী গাড়ীর মালিক ওই দুজন কিশোরকে দোষী সাবস্ত করতে ব্যার্থ হয় এবং গাড়ী হারানোর বিষয়ে থানায় একটি অজ্ঞাত জিডি করেন গাড়ীর মালিক। বৃহস্পতিবার (১০ এ সেপ্টেম্বর২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮ টায় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (গাড়ীর মালিক) দুইজন ইউপি সদস্যর সহযোগিতায় পুনরায় জিজ্ঞাসাবদের জন্য ৪ নং নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এলাকাবাসীর উপস্থিতে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়।
পরবর্তীতে হাজির হোন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ভাস্যমতে, চেয়ারম্যান সকল ঘটনা শুনে বলেন এভাবে আদর করে জিজ্ঞেস করে হবেনা এর পর শুরু হয় আয়না ঘরে নিয়ে ফিল্মি কায়দায় জিজ্ঞাসাবাদ যার প্রমান দুই কিশোরের শরিরের সুস্পষ্ট একজন কিশোরের বাম হাত ভেঙে যায় এবং মারধোরের ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভীতি দেখানো হয়, যদি মারধরের বিষয়ে কাউকে কিছু বলে তাহলে কিশোর গ্যাঙ্গে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন এবং ৭৫,০০০/= পঁচাত্তর হাজার টাকা জরিমানা ফাইসালা করা হয় তার মধ্যে দুই জন কিশোরের পরিবার হতে ২০,০০০/= বিশ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।
মারধরের ঘটনার পরে সেখানে আসে, নাচোল থানার পুলিশ সদস্য এবং মারধোরের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের কিছই বলেনি ওই দুইজন কিশোর । এ বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ প্রতিবেদকে জানান,গত ৯ এ সেপ্টেম্বর একটি মোটরসাইকেল হারানোর জিডি হয়েছিল এবং ১১ই সেপ্টেম্বর পুলিশের একটি টহল দল মাক্তাপুর রাস্তার পার্শ্ব হতে গাড়ীটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। গাড়িটি থানায় নিয়ে আসে এবং জিডি মূলে গাড়ির প্রকৃত মালিকে হস্তান্তর করা হয়। দুই কিশোর উক্ত গাড়ি চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা ও চেয়ারম্যান কর্তৃক মারধরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গ্রেফতার করেনি।
মারধরের বিষয়টি আমাদের পুলিশ সদস্যকে জানায়নি তবে পরবর্তীতে আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি তবে লিখিত কোন অভিযোগ হয়নি ভুক্তভোগীরা যদি আইনগত পদক্ষেপ নেই তাহলে আমরা ব্যবস্থাগ্রহণ করব।


