শামীম রেজা, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৩ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বড় বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার আর মাইকিংয়ের শব্দের ভিড়ে নজর কেড়েছেন একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজিজার রহমান। পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক হলেও বর্তমানে তাঁর দিন কাটছে গ্রামের মেঠোপথ আর হাটে-বাজারে ভোট চেয়ে।
প্রচারণার সম্বল কেবল সাইকেল ও হ্যান্ডমাইক আজিজার রহমানের প্রচারণায় নেই কোনো জাঁকজমক। একটি পুরোনো ভাঙা সাইকেলের পেছনে নিজের নির্বাচনী প্রতীক ‘ঢেঁকি’ বেঁধে পথে নেমেছেন তিনি। সামনে ঝোলানো একটি সাধারণ হ্যান্ডমাইক। নেই কোনো কর্মীবাহিনী কিংবা গাড়িবহর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর ১৯টি ইউনিয়নে নিজেই সাইকেল চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
গণিতের শিক্ষক আজিজার রহমানের নির্বাচনী দর্শন বেশ সাধারণ কিন্তু গভীর। তাঁর মতে প্রচারণায় কোনো পেট্রোল বা ডিজেল খরচ নেই, সাইকেলই ভরসা।
ভোট কেনা-বেচার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। মাত্র ১০ হাজার টাকা বাজেট নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনে খরচ কম করলে বিজয়ী হওয়ার পর দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা তোলার চাপ থাকবে না।
চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মাঠে আজিজার রহমানের এই পথচলা সহজ ছিল না। মনোনয়নপত্র বাতিলের পর আইনি লড়াই করে ফিরে পেয়েছেন প্রার্থিতা। এমনকি ঢাকা থেকে ফেরার পথে ‘অজ্ঞান পার্টির’ খপ্পরে পড়ে শারীরিক অসুস্থতার শিকার হয়েছিলেন। তবুও দমে যাননি এই সংগ্রামী শিক্ষক। এর আগে ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় অধরা থেকে গেছে। তবুও তিনি আশাবাদী, এবার মানুষ তাঁর ধৈর্য ও সততাকে মূল্যায়ন করবে।
গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর বাজারের সাধারণ ভোটাররা জানান, যেখানে টাকা আর ক্ষমতার জোরে প্রচারণা চলে, সেখানে আজিজার রহমানের এই একাকী সংগ্রাম বিমোহিত করার মতো। ভোটারদের কপালে হাত বুলিয়ে দোয়া চাওয়া কিংবা সরল মনে ভোট দেওয়ার আহ্বান যেন সাধারণ মানুষের মনে এক অনন্য জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা-৩ আসনের ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন ভোটার নির্ধারণ করবেন আজিজার রহমানের ‘গণতন্ত্রের অংকের’ ফলাফল কী হবে। এই আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


