শামীম রেজা, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। কোনো প্রকার এসেসমেন্ট (মূল্যায়ন) ছাড়াই জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং এতে বাধা দেওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবকে লাঞ্ছিত ও হুমকির ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান আজাদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ট্যাক্স দাবি করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিছু বহিরাগত কর্মী। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই কর্মীদের কোনো নির্দিষ্ট বেতন নেই; বরং সংগৃহীত টাকার ২৫ শতাংশ কমিশন বা বেতন হিসেবে তাদের প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্যাক্স দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বা বৈধ রসিদ চাইলে বহিরাগত কর্মীরা সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে এই সিন্ডিকেট।
আইন মানতে বলায় সচিবকে লাঞ্ছিত- অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ট্যাক্স নির্ধারণ ও আদায়ের পরামর্শ দিলে প্যানেল চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হন। সচিব যখন সরকারি নীতিমালা ও কাগজ প্রদর্শন করেন, তখন তাকে কর্মস্থলেই লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই সচিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে পারছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কোনো ঘোষণা বা এসেসমেন্ট ছাড়াই হুট করে এসে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হচ্ছে। গরিব মানুষের পক্ষে এই টাকা দেওয়া অসম্ভব। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষমতার দাপট দেখায়।”
এ ব্যাপারে প্যানেল চেয়ারম্যান আজাদ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সরকারি নিয়ম ভেঙে কেন অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং সচিবকে কেন হুমকি দেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
স্থানীয় সরকারের একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও কীভাবে সরকারি আইন প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এবং পরিষদের কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই অনিয়ম বন্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


