আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিয়ম অনুসরণ করা হলেও অনেক মেধাবী তরুণকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দলদলিয়া ইউনিয়ন থেকে স্থানীয় এক কৃষকলীগ নেতার রোল নম্বর রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে।
দলদলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মুসাব্বির মুসা বলেন, “তিনি একজন চিহ্নিত আওয়ামী দোষর। তাকে এখানে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, অথচ আমাদের এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো পরীক্ষা দিয়েও সুযোগ পায়নি।”
অন্যদিকে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উলিপুর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা প্রশাসন কোটা বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের চেয়ারে বসে সম্পূর্ণ সমঝোতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ দিয়েছেন। আমার ইউনিয়নের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনই দলীয় লোক। যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের চেয়ে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা বেশি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, “আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আমি ডিগ্রি পাস। নিয়োগের শর্ত ও নিয়ম অনুযায়ী আমাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু আমার ওয়ার্ডে যাদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, তারা এইচএসসি পাস এবং কারও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তারা বিএনপির কর্মী।”
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বক্তব্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় উলিপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।


