আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (ল’ ক্লার্ক বা মুহুরি) সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও আইনজীবী সহকারী মোঃ আব্দুল বাতেন মুহুরি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই দিন রাতেই নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে মোঃ আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ১৪০ ভোট।
১৪ সদস্যের প্যানেলে আব্দুল বাতেন সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৮ জন বিজয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন ওই প্যানেলের আতিয়ার রহমান। তিনি পেয়েছেন ১৭১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পেয়েছেন ১০১ ভোট।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৬২ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৫৮ জন।
মোঃ আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকনের আইনজীবী সহকারী। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, আব্দুল বাতেনকে নির্বাচনে পরাজিত করার উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তাঁর সমর্থক কয়েকজন মুহুরি। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা বারের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের এক দিন আগে একজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন। গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য, গ্রেফতারের কারণে আব্দুল বাতেন সহানুভূতির ভোট পেয়েছেন এবং তাঁর প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য জয় পেয়েছেন।


